অমরাবতী নামকরণ প্রসঙ্গে
বরাবরের মতো এবারও চাঁদপুর সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগ অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্মরণিকা বের করতে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে স্মরণিকার নামকরণ নিয়ে। প্রতিবার নতুন নামকরণ নিয়ে সময়েরও অপব্যয় হয় অনেক। তাই বিভাগীয় সিদ্ধান্ত হয় স্থায়ী নামকরণ নিয়ে। তারই প্রেক্ষিতে স্মরণিকার স্থায়ী নাম অমরাবতী রাখার প্রস্তাব দেই এবং সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। অমরাবতী নামকরণের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মাথায় রাখি, সেটি হলো-তা সাহিত্য সম্পর্কিত এবং বিভাগের সাথে মানানসই কি-না। বাংলা সাহিত্যের পাঁচজন শ্রেষ্ঠ কবির পাঁচটি কাব্যকে আদর্শ ধরে-অর্থাৎ, কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের অ; মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র ম; জসীম উদ্দীনের ‘রাখালী’ কাব্যের র; জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কাব্যের ব এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যের ত-এই বর্ণগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস অমরাবতী। অমরাবতী স্বর্গের রাজধানী। এ স্থান সকল শোক, তাপ ও জরামুক্ত। এখানে স্বর্গীয় ফুল ফোটে, সুমিষ্ট মৃদু-মন্দ বায়ু বয় এবং অমৃত ধারা প্রবহমান। সবসময় এখানে সুখ ও শান্তি বিরাজ করে। আমাদের বাংলা বিভাগও তেমনি হিংসা-দ্বেষ-ক্লেশ-কুসংস্কারমুক্ত একটি পরিবার, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সবসময় প্রাণোচ্ছল পরিবেশ বিরাজ করে। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক বন্ধুর মতো-যেন একটি সাজানো অমরাবতী। আমাদের বাংলা বিভাগে এই স্বর্গীয় অমিয় ধারার প্রবাহ অব্যাহত থাকুক নিরন্তর-এই কামনা।
মোঃ সাইদুজ্জামান
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ;
চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর

No comments